মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ - ১৩:১৪
ইরাকে ইমাম খামেনেয়ীর জানাজা হবে ঐতিহাসিক

হাওজা / ইরাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পক্ষের উদ্যোগে এবং বাগদাদে ইরানি দূতাবাসসহ ইরানি পক্ষগুলোর সমন্বয়ে নাজাফ আশরাফ ও কারবালা মুয়াল্লা শহরে “শহীদ ইমাম সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী”-এর জানাজার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পক্ষের মাধ্যমে এবং ইরানি পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে “আয়াতুল্লাহ আল-উজমা শহীদ ইমাম সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী”-এর জানাজার আয়োজনের প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে চলছে। এই অনুষ্ঠান আগামী ৮ জুলাই (ইরানি তারিখ ১৭ তীর), অর্থাৎ প্রায় চৌদ্দ দিন পর, নাজাফ আশরাফ ও কারবালা মুয়াল্লা শহরে অনুষ্ঠিত হবে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানির উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, শহীদ ইমামের মরদেহের জানাজা আগামী ৮ জুলাই ইরাকে অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া বাগদাদে ইরানি দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, শহীদ নেতা ইমাম সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর মরদেহ ৮ জুলাই নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হবে। সেখানে প্রদেশটিতে জানাজার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয়-সামাজিক ব্যক্তিত্ব তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পর মরদেহকে হযরত আমিরুল মুমিনীন (আ.)-এর পবিত্র মাজারে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে জিয়ারত ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ কারবালায় নেওয়া হবে, যেখানে বাইনাল হারামাইন এলাকায় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আবার নাজাফ বিমানবন্দরে ফিরিয়ে এনে পবিত্র শহর মাশহাদে পাঠানো হবে।

এই জানাজার আয়োজন ও সমন্বয়ে অংশগ্রহণকারী ইরাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে-আলাভি, হুসাইনি ও আব্বাসি পবিত্র মাজারের প্রশাসন, নাজাফ ও কারবালা প্রাদেশিক প্রশাসন, পরিবহন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হাশদ আশ-শাবি সংস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকের বিভিন্ন শহর ও প্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই জানাজায় অংশ নেবেন। কিছু মহল এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি ধর্মীয়, রাজনৈতিক, গোত্রীয়, সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠন, কর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেবেন।

আল-আহদ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরাকি নাগরিক ও অভিজাত ব্যক্তিরা বলেছেন যে, ইরাকে শহীদ নেতা ইমাম খামেনেয়ীর জানাজা একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হবে। এটি এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি ইরাকি জনগণের আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক, যিনি সবসময় কঠিন ও অন্ধকার সময়ে ইরাকের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সমর্থন ও সহায়তা প্রদান করেছেন।

তাঁরা আরও বলেন, ইরাকে ইমাম খামেনেয়ীর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়া ইরাক ও ইরানের জনগণের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক ও বন্ধনের প্রতিফলন; এমন এক সম্পর্ক, যা কোনো ষড়যন্ত্রই বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। তাঁদের মতে, মরহুম ইমাম খোমেনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পর থেকেই ইরাকের জনগণ বিপ্লবী ইরানকে নিজেদের প্রকৃত সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করেছে।

বিশেষ করে সাদ্দাম সরকারের পতন, মার্কিন দখলদারিত্ব, আল-কায়েদা ও আইএসআইএসের সন্ত্রাসবাদ এবং বহু আরব ও ইসলামী দেশের ইরাক থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর এই বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে।

নাজাফ ও কারবালায় জানাজার পাশাপাশি, আশা করা হচ্ছে যে কয়েক লক্ষ ইরাকি নাগরিক তেহরান, কুম ও মাশহাদে অনুষ্ঠিতব্য জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরানে যাবেন। এসব অনুষ্ঠান আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই (ইরানি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৩ থেকে ১৮ তীর ১৪০৫) অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলো ইরাকি পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে স্থল সীমান্ত ও বিমানবন্দরপথে ইরাকি নাগরিকদের যাতায়াত ও ভ্রমণ সহজতর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha